দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার ধারণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। গতকাল ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোট গ্রহণ শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে ৮ মে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম ধাপের ভোটে এযাবৎকালে সর্বনিম্ন ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পড়ে।

সিইসি বলেন, ‘‌ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি ৩০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি খুব উৎসাহব্যঞ্জক। এর একটি প্রধান কারণ হতে পারে যে দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে যে তারা ভোট বর্জন করেছে এবং জনগণকে ভোটদানে নিরুৎসাহিত করেছে। যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধরনের চেষ্টা হতে পারে। পক্ষ-বিপক্ষ থাকতে পারে। আমাদের ভোট নিয়ে কোনো সংকট নেই। সংকটটি হচ্ছে রাজনীতিতে। আমি মনে করি, রাজনীতি যদি আরো সুস্থ ধারায় প্রবাহিত হয়, ভবিষ্যতে হয়তো ভোটারস্বল্পতার যে সমস্যাটুকু তা কাটিয়ে উঠবে।’

এদিকে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ও অনিয়মের অভিযোগে অন্তত ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে অন্তত ১০ জনকে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের তিন উপজেলায় চারজন, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দুটি ভোট কেন্দ্রের ভেতরে সেলফি তোলা এবং ভোটারদের খাবার বিতরণ করার দায়ে আলাদাভাবে দুজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ বিষয়ে সিইসি জানান, যেখানে ভোট কারচুপির চেষ্টা হয়েছে, সেখানেই হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। মোট ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১০ জনকে তাৎক্ষণিক কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি গ্রামে বাড়িঘর ভাংচুর করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। প্রায় ১২-১৫টি বাড়িতে ভাংচুর করা হয়েছে। অনেক বাড়ির আসবাবপত্র, ধান-চাল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে গ্রামের প্রায় ৩০টি খড়ের গাদায় আগুন দেয়া হয়েছে। জরুরি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেও পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিসের সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। ফলে বিকাল পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বলছিল। 

অন্যদিকে, কক্সবাজার ঈদগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের বাইরে ছপুর আহমদ (২৭) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। ভোটের দিন বিকাল ৪টার দিকে ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম মালমোরাপাড়া কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।