আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা থেকে আয় করা উদ্দেশ্য
নয়, বিশ্বমানের দেশীয় পণ্য সবার কাছে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য বলে জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী
টিপু মুনশি। তিনি বলেন, গত বছর মেলা থেকে ২০০ কোটি টাকার স্পট অর্ডার এসেছিল, এবারও
কিছুটা বাড়বে।
আজ শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর বারোটায় পূর্বাচলে
বঙ্গবন্ধু-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ২৭তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা
(ডিআইটিএফ)-২০২৩ সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন মন্ত্রী।
টিপু মুনশি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে
ধরার জন্য এবার মেলার পরিসর বাড়ানো হয়েছে। গতবছরের চেয়ে শতাধিক স্টল বাড়ানো হয়েছে।
আরো স্টলের চাপ থাকলেও স্থানের সীমাবদ্ধতার জন্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
আরো বলেন, ‘দেশের নতুন পণ্য সবার কাছে পরিচিত
করা এবং রফতানি বাড়ানোর জন্য বাণিজ্য মেলা আশাব্যঞ্জক। সর্বোপরি দেশের উন্নয়নকে তুলে
ধরবে এই মেলা। আমাদের প্রোডাক্ট যাতে বেশি আসে এবং বিদেশী অতিথিরা এসে দেশীয় প্রোডাক্ট
কেনে সেটা আমরা চাই। সেটায় আমাদের জন্য সফলতা।’
‘প্রতিবছর আমাদের রপ্তানি বাড়ছে’ উল্লেখ করে
টিপু মুনশি বলেন, আপনারা জানেন আমরা ৫১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম
কিন্তু সেটা আমাদের ৬০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গিয়েছে। লক্ষ্য থেকে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত রফতানি
হয়েছে। এ বছরও এখন পর্যন্ত আমাদের প্রবৃদ্ধি ভালো আছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের পাটদ্রব্য ও চামড়াজাত
পণ্য রফতানি এক বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করেছে। এছাড়া তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আমরা ১০টি পণ্য
রফতানি বিলিয়ন ডলার নিয়ে যেতে কাজ করছি।
মন্ত্রী বলেন, রফতানির ক্ষেত্রে আমাদের গত
বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬১ বিলিয়ন, এবার বাড়িয়ে ৬৭ বিলিয়ন করেছি। লক্ষ্যমাত্রা করার সময়
আমাদের ইউক্রেন যুদ্ধ মাথায় ছিল না তাও প্রবৃদ্ধি ভালো। রফতানিতে নভেম্বর পর্যন্ত আমাদের
১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে।
কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত
৭০টির মতো বাস চলাচল করবে। প্রয়োজন বিবেচনায় আরো ১০০-১৫০ বাস বাড়াতে চেয়েছে বিআরটিসি
কর্তৃপক্ষ। এবার ভাড়া আগের বছরের চেয়ে ৫ টাকা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনলাইন ও মেলা প্রাঙ্গণের একাধিক কাউন্টার
থেকে টিকিট কাটা যাবে। মেলায় প্রবেশ মূল্য ৪০ টাকা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা।
বিকাশের মাধ্যমে টিকিট কাটলে ৫০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে
মেলায় প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ভেজাল ও অতিরিক্ত মূল্য রোধে কাজ করবে ভোক্তা
অধিকার। খাদ্যের মূল্যও নির্ধারণ করে দেয়া হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
মেলায় দুটি হল ও বাইরের প্রাঙ্গণ মিলিয়ে মোট
৩৩১টি স্টল, প্যাভিলিয়ন ও রেস্টুরেন্ট বসবে। এছাড়া ভারত, হংকং, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া,
সিঙ্গাপুর, মালায়েশিয়া, কোরিয়াসহ ১০টি দেশের ১৮টি স্টল থাকবে।











