অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা ২০৩৪ সাল নাগাদ অব্যাহত বাড়তে পারে। বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) নিম্নমুখী চাহিদা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার পেছনে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্কভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা এ তথ্য জানান। খবর রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বিশ্লেষকরা বলেছেন, ২০৩০ সাল নাগাদ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস সংশোধন করা হয়েছে। আগের পূর্বাভাসে চাহিদা দৈনিক ১০ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হওয়ার কথা বলা হলেও নতুন পূর্বাভাসে তা দৈনিক ১০ কোটি ৮৫ লাখ ব্যারেল ধরা হয়েছে। ২০৩৪ সাল নাগাদ জ্বালানিটির চাহিদা দৈনিক ১১ কোটি ব্যারেলে পৌঁছতে পারে।
আগামী বছরগুলোতে এশিয়ার দেশগুলোয় বিশেষ করে ভারত ও চীনে জ্বালানি তেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়বে, যা বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধিতে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুসারে, চলতি দশকের শেষ নাগাদ জ্বালানি তেলের পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমও বাড়বে। ২০২৪-২৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পরিশোধন কেন্দ্রগুলো তাদের সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করতে পারবে। আর এ সময় চাহিদার বিপরীতে ওই কেন্দ্রগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল স্থিতিশীল ছিল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। গতকাল এ জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম আগের দিনের তুলনায় ১৭ সেন্ট বা দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৩ ডলার ৪৩ সেন্ট। গতকাল মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম আগের দিনের তুলনায় ১২ সেন্ট বা দশমিক ১৫ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেল কেনাবেচা হয়েছে ৭৯ ডলার ১১ সেন্টে।
উভয় বাজার আদর্শতেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত মাসের তুলনায় নিম্নমুখী ধারা বজায় রেখেছে। ব্রেন্টের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য গত মাসের তুলনায় ৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে। ডব্লিউটিআইয়ের মূল্য গত মাসের তুলনায় কমেছে ৩ শতাংশেরও বেশি।
নিউইয়র্কভিত্তিক এ বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংকটি ২০২৮ সাল নাগাদ পেট্রলের চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাসও জানিয়েছে। আরো বলছে, ২০২৪-২৭ সালের মধ্যে চাহিদার তুলনায় ডিজেল ও জেট ফুয়েলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাবে।
বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়লে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে। এর আগে চলতির মাসের শুরুতে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) জানিয়েছে, এ বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক ১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল কমে ১১ লাখ ব্যারেলে নেমে যাবে। তবে ২০৩০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের চাহিদা সর্বোচ্চে পৌঁছবে।










