ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি আসার পর দুবাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্রগুলোয় কাজ করা আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। খবর ইউরো নিউজ।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তেহরানের একটি ব্যাংকে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা এ অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলিসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কেন্দ্র এবং ব্যাংকগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এ ঘোষণার পর দুবাই ও কাতারের মতো স্থানগুলোয় এইচএসবিসি, সিটিব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মতো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম সীমিত করেছে। কিছু ব্যাংক আবার কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিরাপত্তার খাতিরে কিছু শাখা সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়েছে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার প্রথম বার্তায় সামরিক প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখাসহ শত্রু দেশগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখার ডাক দেন। তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোকে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রতিশোধের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের উত্তাপ দীর্ঘায়িত হলে ও নিয়মিত ব্যাংক বা আর্থিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হলে তা পুরো অঞ্চলের ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা এখন এ অঞ্চলের নিরাপদ বিনিয়োগ ক্ষেত্র বা ‘সেফ হ্যাভেন’ হিসেবে দুবাইয়ের অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবছেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যাংকগুলো নিজেদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার ও নিরাপত্তা প্রটোকল কঠোর করার মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে, কিন্তু সামগ্রিক অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।