এশিয়ার স্পট মার্কেটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম গত আট মাসে সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে পণ্যটির চাহিদা কমেছে। পাশাপাশি ইউরোপেও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। এসব কারণে চলতি সপ্তাহে এশিয়ার স্পট মার্কেটে এলএনজির দরপতন হয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার। 

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় অক্টোবরে সরবরাহের জন্য চলতি সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ১৩ ডলার ৮০ সেন্ট, গত সপ্তাহে যা ছিল ১৪ ডলার ১০ সেন্ট। 

ডাটা অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ফার্ম কেপলারের প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলএনজি বিশ্লেষক আনা সুবাসিক বলেন, ‘‌পূর্ব এশিয়ায় ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রায় বিদ্যুতের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। তবে এলএনজির দাম বেশি হওয়ায় আমদানিকারকরা ক্রয় কমিয়েছেন, যা জ্বালানিপণ্যটির দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া আগামী সপ্তাহেও এশিয়ার স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বাড়তে পারে।’ 

তিনি জানান, ‌এ সময় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস ব্যবহার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় স্পট মার্কেটে এলএনজির চাহিদা কিছুটা বজায় থাকতে পারে। তবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আমদানিকারকরা দাম না কমা পর্যন্ত জ্বালানিপণ্যটির ক্রয় বন্ধ রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ইচথিস এলএনজি প্লান্টে দুটি ট্রেনের মধ্যে একটি থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়া সত্ত্বেও এলএনজির দাম কমেছে। 

ইউরোপে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস গত বৃহস্পতিবার অক্টোবরে সরবরাহ চুক্তিতে নর্থ-ওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার বাজার আদর্শের দাম স্থির করেছে প্রতি এমএমবিটিইউতে ১২ ডলার ৪৭ সেন্ট। এছাড়া নেদারল্যান্ডসে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভার্চুয়াল ট্রেডিং পয়েন্ট টিটিএফে প্রতি এমএমবিটিইউতে দশমিক ১৫ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়েছে।

আরগাস প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করেছে ১২ ডলার। অন্যদিকে স্পার্ক কমোডিটিস সেপ্টেম্বরের সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করেছে ১০ ডলার ৪১১ সেন্ট।

আনা সুবাসিক জানান, ইউরোপের দেশগুলোয় তাপমাত্রা কমেছে। চলতি সপ্তাহের শেষে আরো কমতে পারে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়তে পারে। এসব কারণে চলতি সপ্তাহে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কমেছে। 

এদিকে স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো আটলান্টিক সাগরপথে এলএনজি পরিবহনের ব্যয় কমে দৈনিক ৬১ হাজার ৫০০ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে পরিবহন ব্যয় কমে দৈনিক ৭৮ হাজার ৭৫০ ডলারে নেমে এসেছে।