চলতি সপ্তাহে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের চালের রফতানি মূল্য আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। দেশ দুটিতে শস্যটির সরবরাহ বেড়েছে। কিন্তু সে অনুপাতে চাহিদা কম। এ কারণেই মূলত কম দামে রফতানি করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে আফ্রিকার দেশগুলোয় বেশ ভালো চাহিদা থাকায় ভারতীয় চালের রফতানি মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার। 

ভিয়েতনাম প্রতি টন ৫ শতাংশ ভাঙা চাল ৫৮০-৫৮৫ ডলারে রফতানি করছে। আগের সপ্তাহে রফতানি মূল্য ছিল ৫৮৫-৫৯০ ডলার। ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ বাড়তে থাকায় দাম কমে এসেছে। কৃষকরা এরই মধ্যে গ্রীষ্ম ও শরৎকালীন ধান কাটার কাজ শুরু করেছেন। ফলে বাজারে নতুন চাল উঠছে। 

ভিয়েতনামের সরকারি তথ্যমতে, মে মাসে দেশটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি চাল রফতানি করেছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার টনে। এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে রফতানি ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৪১ লাখ ৫০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। 

এদিকে থাইল্যান্ড চলতি সপ্তাহে প্রতি টন ৫ শতাংশ ভাঙা চাল ৬২০-৬৩০ ডলারে রফতানি করছে। আগের সপ্তাহে রফতানি মূল্য ছিল টনপ্রতি ৬৩০-৬৩৫ ডলার। ব্যাংককভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, সাম্প্রতিক নিলামে থাই চালের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। তবে নিলাম শেষে ফের দাম কমে এসেছে। 

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, আফ্রিকা ও ইরাকে থাই চালের এখনো ভালো চাহিদা আছে। জুলাই ও আগস্টের দিকে বাজারে নতুন সরবরাহ আসার সম্ভাবনা আছে। তখন দাম আরো কমে আসতে পারে। 

ভারত বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক। চলতি সপ্তাহে দেশটি প্রতি টন ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল ৫৩৫-৫৪৩ ডলারে রফতানি করছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫৩৬-৫৪৪ ডলার। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে রফতানি মূল্যে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। 

তথ্য বলছে, গত বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বেড়ে ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। শস্যটির দামে এমন উল্লম্ফনের কারণে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি। এশিয়া ও আফ্রিকায় অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের অর্থনীতিতে বাড়ছে ঝুঁকি। 

বিশ্ববাজারে চালের সরবরাহ সংকটের পেছনে অনেকগুলো বিষয়কে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। এল নিনোর কারণে আবহাওয়ার অপ্রত্যাশিত আচরণ খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, আবার কোথাও খরা ব্যাহত করছে শস্যটির আবাদ ও উৎপাদন প্রক্রিয়া। 

ভারতে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির সরকার পণ্যটির রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করতে শুরু করে। ওই সময় বাসমতী ছাড়া সব ধরনের সাদা চাল রফতানিতে দেয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। স্থানীয় সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতেই এ রফতানি নীতি গ্রহণ করে নয়াদিল্লি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে শস্যটির সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। 

বিশ্বের কয়েকশ কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য চাল। শস্যটির এমন মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। গৃহস্থালির নিত্যদিনের ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর অনেক পরিবার।