বিশ্বব্যাপী তুলার সরবরাহ চলতি বছর বাড়তে পারে। প্রধান রফতানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনায় বিশ্বব্যাপী পণ্যটির সরবরাহ বাড়বে। ফলে চলতি বছর তুলার দাম নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান রাবোব্যাংকের গবেষণা উইন রাবোরিসার্চের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। খবর ফাইবার টু ফ্যাশন।
প্রতিবেদনে রাবোরিসার্চের পণ্যবাজার বিশ্লেষক পল জুলেস বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনার প্রভাব এরই মধ্যে বাজারে পড়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে বিশ্বব্যাপী পণ্যটির দাম কমছে। এমনকি ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে ২০২০ সালের নভেম্বরের পর থেকে সর্বনিম্ন দামে তুলা বেচাকেনা হচ্ছে।’
সামনের মাসগুলোয় বিশ্বব্যাপী তুলার মজুদ আরো বাড়তে পারে। তবে সে তুলনায় চাহিদা বাড়বে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাবোব্যাংক জানায়, ২০২৪-২৫ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী তুলা সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনায় চাপের মুখে পড়তে পারে অস্ট্রেলিয়ার তুলার বাজার। কারণ এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল থেকে সরবরাহ বাড়বে।
পল জুলেস জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে দাম কমে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় তুলার দরপতন হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি বেল তুলা ৬০০ ডলারের নিচে বেচাকেনা হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় তুলার দরপতন কম।
পল জুলেসের মতে, সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনায় বিশ্বব্যাপী তুলার দাম কমলেও আবহাওয়াসংক্রান্ত ঝুঁকি রয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক উদ্বেগগুলোর একটি হলো টেক্সাসে দীর্ঘায়িত খরা। এমনকি আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে তুলার ফলনের পূর্বাভাসও সংশোধন করা হতে পারে।
পল জুলেস জানান, ২০২৪ ক্যালেন্ডার বছরের প্রথমার্ধে অস্ট্রেলিয়ায় তুলার প্রধান রফতানি বাজার ছিল চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশ। চীনে সামনের দিনগুলোয় অস্ট্রেলিয়া থেকে তুলা আমদানি বাড়তে পারে। এমনকি ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়াও অস্ট্রেলিয়া থেকে তুলা আমদানি বাড়াচ্ছে।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ২০২৪-২৫ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী তুলার সরবরাহ বাড়তে পারে বলে জানানো হয়। ওয়ার্ল্ড এগ্রিকালচারাল সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড এস্টিমেট (ডব্লিউএএসডিই) প্রতিবেদনে ইউএসডিএ জানায়, এ সময় বিশ্বব্যাপী তুলার বৈশ্বিক উৎপাদন পৌঁছতে পারে ১১ কোটি ৯০ লাখ ৫০ হাজার বেলে। এর মধ্যে উৎপাদনকারী দেশগুলোয় পণ্যটির অভ্যন্তরীণ ব্যবহার হবে ১১ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার বেল।
প্রতিবেদনে ইউএসডিএ আরো জানায়, এ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী তুলার ব্যবহার আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। এমনকি এ সময় সমাপনী মজুদও বাড়বে।
এদিকে ব্রাজিলে চলতি মৌসুমে তুলা উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল সাপ্লাই কোম্পানি কোনাব।
সংস্থাটির মতে, ২০২৩-২৪ মৌসুমে ৩৬ লাখ ৪৪ হাজার টন তুলা উৎপাদন হতে পারে, যা ২০২২-২৩ মৌসুমের তুলনায় ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। চলতি বছর হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৭৪ কেজি হতে পারে। তবে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন কমলেও চাষের জমি বাড়ায় সামগ্রিক উৎপাদন বাড়বে। কোনাবের মতে, ২০২৩-২৪ মৌসুমে ব্রাজিলের তুলা চাষের জমির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১৯ লাখ ৪৪ হাজার হেক্টরে, যা গত মৌসুমের তুলনায় ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।










