ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের ৫০০ কোটি ডলারের বোতলজাত পানির বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তপ্ত গ্রীষ্মকাল শুরুর ঠিক আগেই প্লাস্টিকের বোতল, ক্যাপ বা মুখ ও মোড়ক তৈরির খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা। যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল থেকে শুরু করে কার্টন ও লেবেলের দাম অনেক বেড়েছে। এর ফলে খুচরা পর্যায়ে পানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স।
খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। প্লাস্টিকের বোতল তৈরির মূল উপাদান পলিমার মূলত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল থেকে তৈরি হয়। ফলে বোতল তৈরির কাঁচামালের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি ১৭০ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, বোতলের ক্যাপ বা মুখের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রতিটি দশমিক ৪৫ রুপি হয়েছে। এমনকি বোতল প্যাকিং করার জন্য ব্যবহৃত কাগজ ও আঠালো টেপের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
ফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ভারতের প্রায় দুই হাজার ছোট বোতলজাত পানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ে প্রতি বোতলে ১ রুপি বা ৫ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই দাম আরো ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বর্তমানে ভারতে এক লিটার বোতলজাত পানির দাম ২০ রুপির কম। তবে উৎপাদন খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর এর প্রভাব পড়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব দোশি বলেন, বাজারে বর্তমানে এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর এই বাড়তি দামের প্রভাব পড়তে শুরু করবে।
উল্লেখ্য, ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতে নিরাপদ খাবার পানি পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির ৭০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত। ফলে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে বোতলজাত পানির ওপর নির্ভরশীল। বিসলেরি, কিনলে, অ্যাকুয়াফিনা ও রিলায়েন্সের মতো বড় বড় কোম্পানিগুলো এই বিশাল বাজার দখলের লড়াইয়ে রয়েছে।
সাধারণ পানির পাশাপাশি প্রিমিয়াম বা মিনারেল ওয়াটারের বাজারও এই সংকটের বাইরে নয়। গত কয়েক বছরে ভারতে আভিজাত্য বা স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে মিনারেল ওয়াটারের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ‘আভা’ ব্র্যান্ডের মিনারেল ওয়াটারের প্রধান নির্বাহী শিরয় মেহতা জানান, তারা এরই মধ্যে রিসেলারদের জন্য দাম ১৮ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, অধিকাংশ প্রস্তুতকারক বর্তমানে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়তি খরচ নিজেদের কাঁধেই রাখছেন যাতে ক্রেতা না হারান। কিন্তু গ্রীষ্মের ঠিক আগে পানীয় শিল্পের জন্য এটি অত্যন্ত খারাপ একটি পরিস্থিতি।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়ে, তবে কোম্পানিগুলোর পক্ষে দীর্ঘ সময় এই বাড়তি খরচ বহন করা সম্ভব হবে না। এর ফলে সাধারণ মানুষকে তাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পানির জন্য আরো বেশি অর্থ গুনতে হবে।










