নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে যশোরের অর্থনীতি। কল-কারখানাগুলো চালু থাকলেও নেই পর্যাপ্ত পরিমাণ উৎপাদন আদেশ। ফলে মোটর পার্টস, আবাসিক হোটেল, কাপড়ের দোকানগুলো অনেকটাই ধুঁকে ধুঁকে টিকে আছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তার কারণ হচ্ছে ব্যাংক ও এনজিওর ঋণের কিস্তি। এমন অবস্থায় সরকার কর্তৃক আরো প্রণোদনা ও ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা।

যশোর বিসিকের প্রতিষ্ঠান এমইউসিইএ ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শ্যামল দাস জানান, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ১৯টি দেশে হিমায়িত চিংড়ি রফতানি করে থাকে। কভিডের কারণে গত ফেব্রুয়ারি থেকে এর রফতানির পরিমাণ নেমেছে মাত্র পাঁচটি দেশে। কভিড-পূর্ববর্তী সময়ের মতো তাদের ব্যবসা সচল হতে সময় লাগবে কমপক্ষে আরো এক বছর। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের কাছে প্রণোদনা ঋণের সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন জানান এ ব্যবসায়ী।

যশোর মোটর পার্টস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহিনুর হোসেন ঠান্ডু জানান, দেশের মধ্যে সবচেয়ে মোটর পার্টসের বড় বাজার যশোর। এখানে দেশের বিভিন্ন জেলার গাড়ির মালিকরা আসেন ইঞ্জিন ও খুচরা যন্ত্রাংশ কিনতে। বছরে এখানে কমপক্ষে ৩ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। মহামারী পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা ব্যাংকঋণ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। আরো এক বছর প্রণোদনার সময় পেলে সবাই উপকৃত হতো।

যশোর জেলা উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি তনুজা রহমান মায়া জানান, করোনাভাইরাস নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। জেলায় সাড়ে ৪০০ হস্তশিল্প রয়েছে, যেখানে কমপক্ষে ১০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। প্রায় সব শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান জানান, করোনাভাইরাসের প্রভাবে জেলার অর্থনীতি ধসে পড়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসেছে। ব্যবসায়ীরা ব্যাংকঋণ কীভাবে শোধ করবে, বাড়ি ভাড়া, দোকান ভাড়া ও কর্মচারী বিল কীভাবে দেবেন এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। এজন্য সরকারকে সহযোগিতার হাত আরো বৃদ্ধি করতে হবে।