মেসির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদো ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ২০০৮, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে। এছাড়া ফরাসি গ্রেট মিশেল প্লাতিনি, ডাচ গ্রেট ইয়োহান ক্রুইফ ও মার্কো ফন বাস্তেন তিনবার করে ব্যালন ডি’অর ট্রফির স্বাদ পেয়েছেন।  

গত এক মৌসুমের পারফরম্যান্সে বিচারেই দেয়া হলো এবারের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার। কিন্তু মেসি তো এটি জিতে নিলেন স্রেফ এক মাসের পারফরম্যান্সে! কীভাবে? মরুর দেশ কাতারের মাঠে মাঠে সবুজের গালিচায় ফুল ফুটিয়ে চলা এই ফুটবল শিল্পী প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে। নেতৃত্বে, পারফরম্যান্সে সবার সেরা ছিলেন তিনি। ফাইনালে দুই গোলসহ মোট সাত গোল করে হয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। সেই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স ও অর্জনের হাত ধরে এলো আরেকটি ব্যালন ডি’অর ট্রফি।

মেসির শোকেসটা ট্রফিতে ঠাসা। সেখানে কী নেই! বার্সেলোনার হয়ে খেলার সময় দলীয় ও ব্যক্তিগত সম্ভাব্য সব ট্রফিই জিতেছেন। ছিল না শুধু বিশ্বকাপ ট্রফিটা। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের আজীবনের সেই স্বপ্নটাও তার পূরণ হয় কাতারের মাঠে। কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সকে উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে হারিয়ে শিরোপার স্বাদ পান মেসি ও তার সহযোদ্ধারা। সেই সাফল্যের স্বীকৃতি মিলল এবার ব্যালন ডি’অর জয়ে।

বাংলাদেশ সময় সোমবার মধ্যরাতে প্যারিসের থিয়েটার দু শ্যালেতে মেসির হাতে তুলে দেয়া হয় সোনায় মোড়ানো ঝলমলে ব্যালন ডি’অর ট্রফিটা।

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ট্রেবল জয়ের পথে আর্লিং হালান্ড করেছেন রেকর্ড ৫২ গোল। এবারের ব্যালন ডি’অরে তিনি ছিলেন মেসির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু বিশ্বজয়ী মেসির মাথায়ই উঠল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। আর হালান্ড জিতেছেন সেরা গোলদাতার পুরস্কার গার্ড মুলার ট্রফি।  

রিয়াল মাদ্রিদের ২১ বছর বয়সী ইংলিশ মিডফিল্ডার গত শনিবার এল ক্ল্যাসিকোয় জোড়া গোল করে নিজের আগমনীর জানান দেন। তিনি হয়েছেন ব্যালন ডি’অরের বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়। আর বর্ষসেরা নারী খেলোয়াড়ের ট্রফি জিতেছেন এ বছর স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা মিডফিল্ডার আইতানা বোনমাতি। মেসির মতো তিনিও এ বছর নারী বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন।

তবে প্যারিসের এই তারকার মেলায় সব আলো ছিল মেসির ওপর। ট্রফি জয়ের পর অনুভুতি প্রকাশ করে তিনি বললেন, ‘এখানে এই ট্রফিটা আরেকবার উপভোগ করতে পেরে আমি আনন্দিত। বিশেষ বিশেষ কারণে প্রতিটি ব্যালন ডি’অর আমার কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। বিশ্বকাপ জিতে আমি আমার স্বপ্নপূরণ করেছি। ক্যারিয়ারে আমি যা পেয়েছি তা কখনো কল্পনাও করিনি। আমি সবকিছু পেয়েছি, ইতিহাসের সেরা দলের অংশ হয়েছি।’

তিনি স্মরণ করেন প্রয়াত আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকেও। ৩৬ বছর বয়সী মেসি বলেন, ‘এই শিরোপা ও এই ট্রফি আমি তুমি ও তোমার কমডেরদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছি।’

১৯৫৬ সালে স্ট্যানলি ম্যাথিউজের জয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ব্যালন ডি’অর ট্রফি। ২০২২ সালের আগ পর্যন্ত এটি এক পঞ্জিকাবর্ষের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দেয়া হতো। গত বছর দেয়া হলো ঠিক তার আগের মৌসুমে (২০২১-২০২২) পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। এবার দ্বিতীয়বারের মতো মৌসুমের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার দিল ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষ।

২০২২ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৩ সালে ৩১ জুলাই পর্যন্ত গোল ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।