বিশ্বকাপ ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল ১৯৯৯ সালে। ২৪ বছর পর পুনের ইকানা স্টেডিয়ামে কিউইদের হারাল
ডি ককরা। কিউইদের ১৯০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে
দক্ষিণ আফ্রিকা। এতে করে তারা ভারতের সমান
১২ পয়েন্ট নিয়ে উঠে গেছে পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে।
এদিন টস জিতে প্রথমে
ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিং দিয়ে যেন
বিপদেই পড়ে টম লাথামের দল। যদিও টেম্বা বাভুমা বরাবরের মতো ব্যর্থ হয়েছেন। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৮ রান উঠে, বাভুমা ২৪ করে
সাজঘরে ফেরেন। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ১৮৯ বলে ২০০ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন ডি কক আর
ডুসেন।
কুইন্টন ডি কক এই
বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে থেকে অবসরে যাবেন, বলে রেখেছেন আগেই। বিদায়ী বিশ্বকাপে
রীতিমত স্বপ্নের ফর্মে দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক এই ব্যাটার।
চলতি বিশ্বকাপে সপ্তম
ম্যাচ খেলতে নেমে চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন ছক্কা মেরে। এর আগে চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া
আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকান ডি কক। আজ ১১৬ বলে ১০ চার আর ৩ ছক্কায় তার ব্যাট থেকে
এসেছে ১১৪ রান।
ডি ককের পর সেঞ্চুরি
পূরণ করেন ডুসেনও। ১০১ বল লাগে তার তিন
অংকের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে। ১১৮ বলে ১৩৩
রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ডুসেন, যে ইনিংসে ৯টি চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা হাঁকান এই
ব্যাটার।
শেষদিকে ডেভিড মিলার ৩০
বলে ২ চার আর ৪ ছক্কায় খেলেন ৫৩ রানের ক্যামিও। ৭ বলে অপরাজিত ১৫ করেন হেনরিখ ক্লাসেন। শেষ ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১১৯ রান তোলে
প্রোটিয়ারা। ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৫৭ রানের পাহাড় গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
মাথার ওপর বিশাল রানের
বোঝা নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রোটিয়া বোলারদের তোপে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে
নিউজিল্যান্ড। দলীয় ৮ রানের মাথায় মার্কো
জানসেনের শিকার হয়ে ফেরেন ডেভন কনওয়ে ২। এরপর
রাচিন রাবিন্দ্রকে আউট করেন জানসেন। চাপ কাটাতে উইল ইয়ং চালিয়ে খেলছিলেন। কিন্তু
৩৭ বলে ৩৩ করা এই ব্যাটারকে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ বানান কোয়েটজি। অধিনায়ক টম লাথামও সুবিধা করতে পারেননি। ৪ রান করে কাগিসো রাবাদার বলে কভারে কেশভ
মহারাজকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৬৭ রানে
৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে নিউজিল্যান্ড।
হাল ধরতে চেয়েছিলেন
ড্যারেল মিচেল। কিন্তু ২৪ রান করে তিনি হন
কেশভ মহারাজের শিকার। বাঁহাতি এই স্পিনারের ঘূর্ণিতে বোল্ড হন মিচেল স্যান্টনারও (৭)।
১০০ রানে ৬ উইকেট হারায় কিউইরা।
শেষদিকে গ্লেন ফিলিপস
একা লড়াই করে ১৬৭ পর্যন্ত নিয়ে গেছেন দলকে। ৫০ বলে ৬০ করে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনিও।
শেষ পর্যন্ত ৩৫.৩ ওভারে
১৬৭ রানে অলআউট হয় কিউইরা।










