মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আজ বিশ্বকাপ ম্যাচে শ্রীলংকাকে ৩০২
রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সবার আগে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল ভারত। আগে
ব্যাটিং করে ৮ উইকেটে ৩৫৭ রান তোলে স্বাগতিকরা। জবাব দিতে নেমে মোহাম্মদ শামি,
মোহাম্মদ সিরাজ ও জশপ্রীত বুমরাহর আগুণ ঝরানো গতি বলের সামনে অসহায় সিংহলিজরা
মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয়ে লজ্জাজনক হার বরণ করে।
রানের হিসেবে ওয়ানডেতে এটা চতুর্থ বৃহত্তম জয়। সর্বোচ্চ ৩১৭ রানের
জয়টিও ভারতের এবং সেটিও শ্রীলংকারই বিপক্ষে। এ বছর কেরালায় ভারতের বিপক্ষে ৩৯১ রান
তাড়া করতে নেমে ৩১৭ রানে হেরেছিল সিংহলিজরা। এবার বিশ্বকাপে আরেকটি বিপর্যয়ের
মুখোমুখি দ্বীপদেশটি।
বিশ্বকাপে রানের হিসেবে এটা দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়। চলতি বিশ্বকাপেই
নেদারল্যান্ডসকে ৩০৯ রানে হারিয়ে রেকর্ডটা নতুন করে লেখায় অস্ট্রেলিয়া। আগের ২৭৫
রানের জয়ের রেকর্ডটাও ছিল অস্ট্রেলিয়া।
শ্রীলংকার ৫৫ রান ওয়ানডে ইতিহাসে দশম সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ও ওয়ানডে
বিশ্বকাপে চতুর্থ সর্বনিম্ন সংগ্রহ। সর্বনিম্ন ৩৬ রানের রেকর্ডটা কানাডার দখলে এবং
সেটি শ্রীলংকার বিপক্ষে।
২০১১ সালের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও শ্রীলংকা। ওই ম্যাচে
সিংহলিজদের হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ মুকুট জিতেছিল ভারত। সেই মাঠে ২০২৩
সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ম্যাচে আজ মুখোমুখি হয় ভারত-শ্রীলংকা। এ ম্যাচে টস হেরে আগে
ব্যাটিং করতে নামা ভারত বিরাট কোহলি, শুভমান গিল ও শ্রেয়াস আইয়ারের ফিফটিতে
নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৫৭ রান তুলতে সমর্থ হয়।
ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা ইনিংসের প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে সূচনা
করেন। যদিও দিলশান মাদুশঙ্কার পরের বলেই তিনি বোল্ড! এরপর বিরাট কোহলি ও গিলের ১৮৯
রানের দুর্দান্ত এক জুটিতে সংহত অবস্থানে চলে যায় স্বাগতিকরা। গিল ৯২ বলে ১১টি চার
ও দুই ছক্কায় ৯২ রান করে মাদুশঙ্কার শিকার হন। মাদুশঙ্কা পরের ওভারে ফেরান
কোহলিকেও। সাজঘরে ফেরার আগে ৯৪ বলে ১১ বাউন্ডারিতে ৮৮ রান করেন তিনি।
সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক ছোঁয়া হলো না গিল ও
কোহলির। যদিও এই ইনিংসের জন্যও তারা লংকানদের ধন্যবাদ দিতেই পারেন! ইনিংসের শুরুর
দিকে দুজনই জীবন পান। শুরুর দিকে মাদুশঙ্কার বলে গিল কভারে ক্যাচ দিলেও তা
তালুবন্দি করতে পারেননি চারিথ আসালঙ্কা। কোহলি ব্যক্তিগত ১০ রানের সময় মাদুশঙ্কাকে
রিটার্ন ক্যাচ দিলেও তিনি তা হাতে জমাতে ব্যর্থ হন। জীবন পেয়েই এ দুজন প্রায় দুশ
রানের জুটি গড়েন।
কোহলি ও গিলের পর লংকানদের ওপর কর্তৃত্ব করেন শ্রেয়াস আইয়ার। ৩২তম
ওভারে নেমেও সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগান তিনি। যদিও মাত্র ৫৬ বলে ৩ চার ও ৬ ছক্কায়
৮২ রান করে মাদুশঙ্কার শিকার হয়ে ফেরেন সাজঘরে। তিনি যখন আউট হয়ে যান তখনও ১৫ বলের
খেলা বাকি। টিকে থাকলেই সেঞ্চুরি পেতে পারতেন এই ডানহাতি ব্যাটার। শেষ দিকে ২৪ বলে
৩৫ রান করে ভারতের সংগ্রহটা বড় করায় ভূমিকা রাখেন রবীন্দ্র জাদেজা।
পেসার মাদুশঙ্কা ৮০ রানে ৫ উইকেট নেন। দুশমন্ত চামিরা নেন এক উইকেট।
শেষ ওভারে রানআউট হন মোহাম্মদ শামি ও জাদেজা।
শচীন টেন্ডুলকারের ৪৯তম সেঞ্চুরির রেকর্ডটা আজও ছোঁয়া হলো না কোহলির।
তবে ৮৮ রান করার পথে বেশ কিছু মাইলফলকে পা রাখেন তিনি। আজ ৩৪ রান করার মধ্য দিয়ে
চলতি বছর হাজার রান পূর্ণ করেন তিনি। ক্যারিয়ারে এ নিয়ে অষ্টমবার বছরে হাজার রান
করলেন তিনি। শচীন টেন্ডুলকার করেছিলেন সাতবার। চলতি বছর পাথুম নিশাঙ্কা, রোহিত
শর্মা ও রোহিত শর্মার পর চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে এক হাজার রান পূর্ণ করলেন কোহলি।
ব্যাটারদের গড়ে দেয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে দাপুটে জয় তুলে নেয় ভারত। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আগুণ ঝরানো বোলিং করেন শামি, সিরাজ ও বুমরাহ। শামি ১৮ রানে ৫ উইকেট শিকার করে বিশ্বকাপে ভারতের সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড গড়েন। জহির খানকে (৪৪ উইকেট) টপকে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে শামির উইকেট এখন সবচেয়ে বেশি।
চলতি আসরে এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল ভারত। তারা ৭ ম্যাচের
সবগুলো জিতে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানে রয়েছে। সমান ম্যাচে ১২ পয়েন্ট
নিয়ে দুইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। আজই প্রোটিয়াদের হটিয়ে শীর্ষে উঠে গেল রোহিত শর্মার
দল। অন্যদিকে, ৭ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলেল সাতে অবস্থান করছে শ্রীলংকা।










