‘ডিপ্লেসমেন্ট অ্যান্ড রিফিউজি ইস্যু ইন সাউথ এশিয়া: আনকভারিং দ্য কনটেস্টেড রিয়েলিটিস’ শীর্ষখ গ্রন্থের প্রকাশনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)। বিশ্বখ্যাত একাডেমিক প্রকাশনা সংস্থা ব্লুমবারিং থেকে প্রকাশিত এ সম্পাদিত গ্রন্থটিতে দক্ষিণ এশিয়ায় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, শরণার্থী শাসনব্যবস্থা ও মানবিক সংকট নিয়ে সমসাময়িক ও গভীর বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এটি সম্পাদনা করেছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানে বইটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা। এতে বাংলাদেশ, ভারত, আফগানিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বাস্তুচ্যুতি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বুলবুল সিদ্দিকী বলেন, গ্রন্থটিতে শরণার্থীদের আশ্রয় ও নাগরিকত্ব আইন, পরিবেশগত বাস্তুচ্যুতি, শরণার্থী বিষয়ক গণমাধ্যম উপস্থাপন, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট, কয়েক দশকের সংঘাতে গঠিত আফগান বাস্তুচ্যুতি, ও শরণার্থী শিবির ব্যবস্থাপনাকে একটি বৈশ্বিক নীতিগত চর্চা হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গ্রন্থের অন্যতম লেখক ও এনএসইউ-এর সিনিয়র লেকচারার পারিসা শাকুর উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে স্বাগতিক জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে সামাজিক সংহতি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সহাবস্থানকে আরও জটিল করে তুলছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট বিষয়ক অধ্যায়ের লেখক ও রোহিঙ্গা গবেষক কাইসার হুসেইন তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে বাস্তুচ্যুতি কোনো সাময়িক অবস্থা নয়; এটি একটি কাঠামোগত বাস্তবতা। সমস্যার মূল রয়েছে মিয়ানমারে। আর এ বাস্তবতাকে স্বীকার করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

অনুষ্ঠানের আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার শরণার্থী রাজনীতি বিষয়ক গবেষক আলতাফ পারভেজ। অঞ্চলের পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি শরণার্থী সংকটকে আরো জটিল করে তুলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। তিনি গ্রন্থটির বৈশ্বিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, গ্রন্থটি দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তুচ্যুতি ও শরণার্থী পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।- বিজ্ঞপ্তি